সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

শাইখ আলবানী কি শবেবরাতের হাদীসকে সাহীহ বলেন নি?

(১৪০০৮৪) আমরা কেন উল্লেখ করছি না যে শাইখ আলবানী (রহঃ) মধ্য শাবানের রাতের ফযিলতের হাদীছকে ছহীহ বলেছেন?

প্রশ্নঃ 

আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, “আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে আত্নপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত তাঁর সৃষ্টির সকলকে ক্ষমা করেন।”

হাদীছটির বিশুদ্ধতা মর্মে একটি প্রশ্নের উত্তর আপনি দিয়েছিলেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক, কিন্তু আপনি আলবানী (রহঃ) এর মতে হাদিছটি ছহীহ হবার ব্যাপারটি উল্লেখ করেননি, যেহেতু আমি অন্যান্য ওয়েবসাইটে এই বিষয়টি পড়েছি। আমি আপনাদেরকে অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বিশ্বাস করি, এর পিছনে আছে আপনাদের হাদীছ যাচাই বাছাই করার পক্রিয়া, আপনাদের শিক্ষাগত নির্ভুলতা এবং আপনাদের সততা। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলঃ সত্যিই কি শাইখ আলবানী (রহঃ) এই হাদীছকে ছহীহ বলেছেন ? কারণ আপনারা আপনাদের ফতওয়াতে শাইখ আলবানী (রহঃ) এর মতকে উল্লেখ করে থাকেন, তাহলে কেন এক্ষেত্রে আপনারা এখানে সেটা উল্লেখ করলেন না ? তাহলে কি শাইখ আলবানী (রহঃ) এটা বলেননি, অথবা অন্যান্য ওয়েবসাইটগুলিতে যেটা আছে সেটা ভুল অথবা কোনটা? দয়া করে দেখবেন যে এই হাদীছের মান ছহীহ, যা আমি ছহীহুল জামে , হাদীছ নং ১৮১৯ এ পড়েছি। [প্রকাশকালঃ ২০১৪-০৬-১১]

উত্তরঃ

আলহামদুলিল্লাহ!

আমরা আপনাকে ধন্যবাদ জানাই আমাদের সাইটের প্রতি আপনার বিশ্বাসের জন্য, এবং আমরা আল্লাহ কাছে দুআ রাখি যেন আমরা আপনার প্রত্যাশা পর্যন্ত পৌঁছতে পারি। আমরা আরও দুআ চাই, যিনি সুমহান, আল্লাহ যেন মানুষকে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে উপকার করে এবং যারা এই ওয়েবসাইটের তদারকি করছেন তাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন।

এটা সবার কাছেই স্পষ্ট যে আমরা সচরাচর হাদীছের ছহীহ এবং যঈফ হওয়ার বিষয়টিতে শাইখ আলবানী (রহঃ) এর মতের উপর নির্ভর করি। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে, যখন আমরা কোন হাদীছকে নিয়ে গবেষণা করি, সেক্ষেত্রে লক্ষ্য করি শাইখ আলবানী (রহঃ) এর থেকে অন্য হাদীছ বিশেষজ্ঞের রায়টা অধিকতর সঠিক, অথবা কোন কোন সময় আমাদের যাচাই বাছাইয়ের পক্রিয়ায় এটা বলে যে একটি নির্দিষ্ট হাদীছের ক্ষেত্রে শাইখ (রহঃ) এর রায়কে মানা যাবে না। আমরা দেখি যে, একটি হাদীছের উপর শাইখ আলবানী (রহঃ) এর রায় খুবই সুপরিচিত, এবং কিছুরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন, তাই আমরা তার রায়কে উল্লেখ করার সাথে সাথে সেখানে কিছু মত দেই, কিন্তু কিছু কিছু সময় আমরা দেখি যে, সেখানে অনেকেই শাইখ আলবানী (রহঃ) এর রায়ের সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন, তাই সেক্ষেত্রে আমরা তার রায়কে উল্লেখ করে আমাদের মত দেই না, বরং অন্যান্যদের মতকে আমরা উল্লেখ করি।

দ্বিতীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার কারণে, আমরা হাদীছটির ব্যাপারে আলবানী (রহঃ) এর রায়কে উল্লেখ না করে ইবনু রজব আল-হানবালী (রহঃ) এর উক্তি উল্লেখ করলাম, যেখানে তিনি বলেন, অধিকাংশ মুদাদ্দিছগন মধ্য শাবানের রাতের ফযিলত মর্মে বর্ণিত হাদীছকে যঈফ বলেছেন।

যদিও, এখানে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় বলে রাখা উচিৎ, শাইখ আলবানীও (রহঃ) ভেবেছিলেন যে আবু মুসা আল-আসারী (রাঃ) থেকে বর্ণনাকৃত হাদীছটি যঈফ! এটা আমাদের উপরে উল্লিখিত হাদীছটির যঈফ হওয়ার সাথে সাদৃশ্য রাখে, কিন্তু আমরা তার এই মত উল্লেখ করিনি কারণ তিনি (রহঃ) ভেবেছিলেন যে এই হাদীছকে ছহীহর মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে যখন ইহার সকল সনদকে একত্র করা হবে। তিনি (রহঃ) বলেনঃ

আবু মুসা (রাঃ) এর হাদীছটি ইবনু লুহাইয়াহ , যুবায়ের বিন সুলায়ম থেকে, তিনি দাহাক বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃ আমি আবু মুসা (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে একইরুপ হাদীছ বলতে শুনেছি। [ইবনু মাজাহ, হা/১৩৯০ এবং ইবনু আবি আশিম আল-লালকাই]

আমি বলছিঃ এই সনদটি যঈফ, কারণ ইবনু লুহাইয়াহ এবং আব্দুর রহমান, যিনি হলেন ইবনু আরজাব এবং আদ-দাহাকের পিতা, তিনি অজ্ঞাত। ইবনু মাজাহ তাকে যঈফ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন যখন সে ইবনু লুহাইয়াহ হতে বর্ণনা করেন। [ছহীহাহ ৩/২১৮]

 

শাইখ (রহঃ) হাদিছটির সনদ এর সাথে সাথে ইহার অন্যান্য প্রমানসমূহ উল্লেখ করেছেন। [ছহীহাহ ১১৪৪], এবং তিনি উপসংহার হিসাবে বলেন আবু মুসা (রাঃ) থেকে বর্ণনাকৃত হাদীছের শব্দগুলি ছহীহ।

কিন্তু আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা মনে করিনা যে শাইখ (রহঃ) যা বলেছেন সেটা সঠিক, এবং আমরা এটাও মনে করিনা যে ঐসকল সনদগুলি একে অপরকে শক্তিশালী করে। শেষে আমরা উল্লেখ করতে চাই, শাইখ আবদুল আজীজ বিন বাজ (রহঃ) এর একটি প্রবন্ধ, ‘حكم الاحتفال بليلة النصف من شعبان’ (মধ্য শাবান রাত্রি উৎযাপন), যার মধ্যে তিনি বলেনঃ

অধিকাংশ মুহাদ্দিছগন ইহার উপর একমত যেঃ ইহা উৎযাপন করা বিদআত, এবং যে সকল হাদীছ ইহার ফযিলতের কথা বর্ণনা করে তার প্রতিটিই যঈফ, এবং কিছু জাল। তাদের মধ্যে একজন যিনি এগুলি উল্লেখ করেছেন তিনি হলেন হাফেজ ইবনু রজব, তিনি তার কিতাব ‘লাতায়েফ আল-মারিফ’ (لطائف المعارف) এ এসব বর্ণনা করেছেন।

এটাই আমাদের নিকট সঠিকের নিকটবর্তী। একটা হাদীছ ছহীহ অথবা যঈফ হওয়ার ব্যাপারটা ইজতিহাদের অন্তর্ভুক্ত, একজন বিশেষজ্ঞের কাছে যেটি সবথেকে সঠিক মনেহয় তিনি তার উপরেই আমল করেন, এবং একজন জ্ঞান আরোহনকারীর নিকট যে আলেমের মতটি সঠিক মনে হবে সে সেটাই গ্রহণ করবে।

দয়া করে শাইখ আলবানী (রহঃ) সম্পর্কে ফতওয়া নং ১১৩৬৮৭ দেখুন।

আল্লাহ সবথেকে ভাল জানেন।

নিসফে শাবান (প্রসিদ্ধঃ শবেবরাত) সম্পর্কিত ফযিলতের হাদীসগুলোর বিশ্লেষণ এবং শাইখ আল আলবানীর তাহকীকের পুনঃতাহকীক জানার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুনঃ

¤  নিসফে শাবানের হাদীসের মান বিশ্লেষণ  – কামাল আহমাদ  (০৩.৪৭ এম.বি)

লেখক :  শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ

অনুবাদকঃ সত্যান্বেষী রিসার্চ টীম

মূল উৎস:  https://islamqa.info/en/140084

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 391 times, 1 visits today)

Follow me!

Related Post

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team