সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

মিরাজের রজনী, ২৭ এ রজব এবং বিশেষ ইবাদাতসমূহ

ইসরা ও মি’রাজ রাসুল (সাঃ)-এর মাক্কী জিবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নবুয়ত ও রিসালাতের প্রমানে ইসরা ও মি’রাজ অন্যতম মু’জিজা। মি’রাজের রজনীতেই নির্দেশ এসেছে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের, যা নিয়মিতভাবে পালন না করলে মুসলিম হিসাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়। সুতরাং ইসরা ও মি’রাজ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী।

 

মদীনায় হিজরতের প্রায় দু’বছর পূর্বে রাসুল (সাঃ) মক্কায় মাসজিদে হারাম থেকে জেরুজালেমের মাসজিদে আকসা পর্যন্ত অলৌকিকভাবে রাতের বেলা ভ্রমন (ইসরা) করে সেখান থেকে সাত আসমানের মধ্য দিয়ে সৃষ্টির শীর্ষে গমন (মিরাজ) করেন।

 

রাসুল (সাঃ)-এর জন্য এ অলৌকিক ভ্রমনের বন্দোবস্ত করার পিছনে মুল উদ্দেশ্য ছিল তিনি যেন আল্লাহর সম্মুক্ষে সরাসরি উপস্থিত হতে সক্ষম হন। তিনি একে একে প্রথম আসমান, তারপর দ্বিতীয় আসমান, তারপর তৃতীয় আসমান, তারপর চতুর্থ আসমান, তারপর পঞ্চম আসমান, তারপর ষষ্ঠ আসমান, তারপর সপ্তম আসমান এবং অতঃপর ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ পর্যন্ত গমন করেন। এরপর মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাতের হুকুম নিয়ে নিচের আসমানে মুসা (আঃ)-এর সাথে কথা বলেন। অতঃপর মুসা (আঃ)-এর পরামর্শক্রমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত থেকে কমানোর জন্য বারবার আল্লাহর সান্নিধ্যে গিয়েছেন ও অবতরন করেছেন। শেষ পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত সলাত স্থির হয়।

 

কিন্তু রাসুল (সাঃ)-এর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এই ইসরা ও মি’রাজের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য কোনো সন, মাস ও তারিখের কোনো উল্লেখ নেই। মি’রাজ সংঘটিত হওয়ার তারিখ সম্পর্কে বিদ্বানগন মতভেদ করেছেন। যেমন, কেউ কেউ বলেছেন নবী (সাঃ)-এর নবুয়ত লাভের পূর্বেই মি’রাজ সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু এটা দুর্বল মত হিসাবেই গণ্য করা চলে। অধিকাংশ বিদ্বানগণের মতে নবুয়ত লাভের পরেই মি’রাজ সংঘটিত হয়েছে। তবে কোন বর্ষে, কোন মাসে ও কোন তারিখে সংঘটিত হয়েছে এটা নিয়ে প্রায় ২০টি মতামত পাওয়া যায়। যেমনঃ

 

০১) নবুয়ত লাভের বছরেই মি’রাজ সংঘটিত হয়েছে।

০২) নবুয়ত লাভের পাঁচ বছর পর মি’রাজ সংঘটিত হয়।

০৩) নবুয়ত লাভের দশম বছরে রজব মাসের ২৭শে রাত্রিতে।

০৪) হিজরতের এক বছর পূর্বে অর্থাৎ নবুয়তের ১২তম বছরে রবিউল আউয়াল মাসের ২৭শে রজনীতে।

০৫) হিজরতের আট মাস পূর্বে রমাদান মাসের ২৭শে রাত্রিতে।

০৬) হিজরতের ছয় মাস পূর্বে।

০৭) হিজরতের এক বছর দু’ মাস পূর্বে মুহাররাম মাসে।

০৮) হিজরতের এক বছর তিন মাস পূর্বে যিলহাজ্জ মাসে।

০৯) হিজরতের এক বছর পাঁচ মাস পূর্বে শাওয়াল মাসে বা রমাদান মাসে।

১০) হিজরতের পূর্বে রজব মাসের প্রথম শুক্রবারে রাতে, ইত্যাদি।

 

এছাড়াও আরও একাধিক মতামত পাওয়া যায়। (আল আ’ইয়াদ পৃষ্ঠা নঃ ৩৫৯-৩৬০; আর-রাহীকুল মাখতুম, পৃষ্ঠা নঃ ১৭৮-১৮৩; আল-বিদা আল-হাওলিয়া পৃষ্ঠা নঃ ২৭০-২৭৪)

 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে ও বিভিন্ন মতামত থেকে এটাই প্রমানিত হয় যে, ইসরা ও মি’রাজ সংঘটিত হওয়ার রাতটির সঠিক ও নির্ভুল তারিখ কারো জানা নেই। কেননা এ সম্পর্কিত সঠিক কোনো প্রমান কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়নি। বরং প্রত্যেক বিদ্বানগণ তাদের গবেষণার আলোকে বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

 

ইমাম ইবন কাসির (রহঃ) বলেনঃ

 

“যে হাদীসে বলা হয়েছে, ইসরা ও মি’রাজ রজব মাসের ২৭শে রাত্রিতে সংঘটিত হয়েছে- তা সঠিক নয় বরং এর কোনো ভিত্তিই নেই।’’

– আল বিদায়া ওনা নিহায়া ৩/১০৭

 

ইমাম আবু শামাহ (রহঃ) বলেনঃ

 

“অনেক আলোচক বলে থাকেন যে, ইসরা ও মি’রাজ রজব মাসে সংঘটিত হয়েছে। মুলত এটা হাদীস শাস্ত্রের বিদ্বানদের কাছে ডাহা মিথ্যা কথা।’’

– আল বায়েস ফী ইনকারিল বিদা পৃষ্ঠা নঃ ৭১

 

ইমাম ইবন তাইমিয়া (রহঃ) বলেনঃ

 

“মি’রাজ সংঘটিত হওয়ার মাস, দশক বা নির্ধারিত দিনের কোনো অকাট্য প্রমান নেই।’’

– যাদুল মা’আদ ১/৫৭

 

ইমাম ইবন বায (রহঃ) বলেনঃ

 

“যে রাতে মি’রাজ সংঘটিত হয়েছে বলে ধারনা করা হয়, সে রাতটি রজব মাস অথবা অন্য কোনো রাত বা মাস নির্দিষ্টভাবে সহীহ হাদীসে প্রমানিত হয়নি। বরনহ মি’রাজের দিন-তারিখ সম্পর্কে যে সকল বর্ণনা পাওয়া যায়, সকল মুহাদ্দিস কেরামের মতে সে সকল বর্ণনা নবী (সাঃ) হতে বিশুদ্ধভাবে প্রমানিত নয়। যদিও নির্দিষ্ট তারিখ প্রমানিত হয়, কিন্তু সে তারিখে বিশেষ কোনো ইবাদত করা যাবে সম্পর্কিত সঠিক ও বিশুদ্ধ প্রমান নবী (সাঃ) ও সাহাবীদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। তাই সবই বিদা’আতের অন্তর্ভুক্ত- যা বর্জন করাই মুসলিমের অপরিহার্য কর্তব্য।’’

– আল বিদা ওয়াল মুহদাসাত পৃষ্ঠা নঃ ৫৮৯

 

সালিহ আল উসাইমিন (রহঃ) বলেনঃ

 

“নবী (সাঃ) রজব মাসে শবে মি’রাজকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো সলাত, সিয়াম ও কুরবানি করেননি। সুতরাং রাসুল (সাঃ) ও সাহাবাদের নিকট এই রাতের কোনো আলাদা বৈশিষ্ট্য ছিল না। সাহাবীদের স্বর্ণযুগের পর কুরআন-সুন্নাহর অজ্ঞতা বেড়ে যাওয়ায় এবং প্রবৃত্তির তাড়নায় ও শয়তানী প্ররোচনায় বর্তমান যুগের কতিপয় নামধারী মুসলিম এই জাহেলী প্রথার অনুসরন করে রজব মাসে বিশেষ ইবাদতের প্রচলন করেছে। তাই আল্লাহভীরু প্রত্যেক মুসলমানের এই ধরনের ইবাদত বর্জন করা উচিৎ।”

– বিদা’আতের ভয়াবহতা, পৃষ্ঠা নঃ ৩৮-৪৩

 

সালিহ আল ফাওযান বলেনঃ

 

“রাসুল (সাঃ)-এর মি’রাজে গমন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা এবং রজব মাসের ২৭ তারিখের রাত্রিতে শবে মি’রাজের নামে রাত্রি পালন করা ও বিভিন্ন ইবাদতে লিপ্ত হওয়া বিদা’আত। এক্ষেত্রে শরীয়তের কোনো দলীল নেই।”

– বিদা’আত হতে সাবধান, পৃষ্ঠা নঃ ৩৭

 

ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেনঃ

 

“রজব মাসে সিয়াম পালন করা এবং এ মাসের কোনো কোনো রাতে বিশেষ সলাত আদায় করা সম্পর্কে বর্ণিত প্রত্যেকটি হাদীইসই মিথ্যা ও বানোয়াট।”

– আল-মানারুল মুনীফ পৃষ্ঠা নঃ ৬৬

 

ইবন রাজাব (রহঃ) বলেনঃ

 

“রজব মাসে (বিশেষ) কোনো নামাজ প্রমাণসিদ্ধ নয়।’’

– লাতায়েফুল মা’আরিফ ১৩১

 

এছাড়া ইবন হাজার আসকালানী, সুয়ুতি, মুল্লা আলী কারী প্রমুখ বিদ্বানগণও একবাক্যে বলেছেন, ‘রজব মাসের কোনো দিনে বা রাতে বিশেষ পদ্বতিতে বিশেষ কোনো সলাত আদায় করলে বিশেষ কোনো সাওয়াব পাওয়া যাবে’ এ মর্মে একটি হাদীসও গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়নি। এ বিষয়ে যা কিছু বলা হয় সবই বাতিল। ইবন রাজাব, লাতায়িফ খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৯৪; মুল্লা আলী কারী, আল- আসরার পৃষ্ঠা নঃ ২৩৮; আবদুল হাই লাখনাভী, আল আসার পৃষ্ঠা নঃ ৫৮-৯০, ১১১-১১৩

 

অথচ আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে ২৬শে রজব দিবাগত রাত্রি ২৭শে রজবে মহা ধুমধামে ‘শবে মিরাজ’ উদযাপন করা হয়। অথচ এই তারিখের সঠিক কোনো ভিত্তি নেই। আশ্চর্যের বিষয়, যে বিষয়টির সঠিক কোনো দিন তারিখের প্রমান পাওয়া যায় না, সেই তারিখকে কেন্দ্র করে কোনো ইবাদত করা কিভাবে সমীচীন হতে পারে! মি’রাজকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন এই তারিখে কোনো রকম নফল ইবাদতে লিপ্ত হওয়া কোনো মুসলিমের জন্য জায়েজ নয়। কেননা তা অবশ্যই বিদা’আত।

 

বিদা’আতি আমল আল্লাহর নিকট কবুল হবে না এবং বিদা’আতের পরিনাম জাহান্নামঃ

 

নবী (সাঃ)-এর অনুসরন বাদ দিয়ে মনগড়াভাবে অথবা নিজস্ব খেয়াল-খুশি মতো ইবাদতের সুযোগ ইসলামে নেই। ইসলামে ইবাদত হচ্ছে ‘তাওকিফী’। অর্থাৎ কোনো কিছুকে ইবাদত হিসাবে সাব্যস্ত করতে হলে তার জন্য দলীল লাগবে। দলীল বিহীন কোনো কাজকে ইবাদত বলার কোনো সুযোগ নেই। ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান জন্য শর্ত দু’টিঃ

 

১-ইখলাসঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

 

“তাদেরকে এ ছাড়া আর অন্য কোন হুকুমই দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে।’’

– সূরা আল বাইয়েনাহ ৯৮/৫

২-রাসুল (সাঃ)-এর অনুসরনঃ

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেনঃ

 

“যে ব্যাক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কথা উদ্ভাবন করল, তা প্রত্যাখ্যাত।’’

– বুখারী হা/২৬৯৭; মুসলিম হা/৪৩৮৪-(১৭/১৭১৮), ৪৩৮৫-(১৮/…); ইবনে মাজাহ হা/১৪; আবু দাউদ হা/৪৬০৬

 

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ

 

“নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম রীতি মুহাম্মাদ (সঃ)- এর রীতি। আর নিকৃষ্টতম কাজ (দ্বীনে) নব আবিষ্কৃত কর্মসমূহ এবং প্রত্যেক বিদ’আত ভ্রষ্টতা।’’

– মুসলিম হা/১৪৩৫ (ক) – (৪৩/৮৬৭); নাসায়ী হা/১৫৭৮; ইবনে মাজাহ হা/৪৫

 

আবু নাজীহ ইরবায ইবন সারিয়াহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ

 

“স্মরণ রাখ! তোমাদের মধ্যে যে আমার পর জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ বা অনৈক্য দেখবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত ও সুপথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের রীতিকে আঁকড়ে ধরবে এবং তা দাত দিয়ে মজবুত করে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনে নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদ’আত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারন প্রত্যেক বিদ’আতই ভ্রষ্টতা।’’

– আবু দাউদ হা/৪৬০৭; তিরমিযী হা/২৬৭৬, সানাদ সাহীহ

 

সুতরাং আমল করলেই তা গ্রহণযোগ্য হবে না, যতক্ষণ না একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্যেশে ও রাসুল (সাঃ)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী হবেঃ

 

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

 

“বল- আমি তোমাদেরকে কি সংবাদ দেবো নিজেদের আমলের ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত? তারা হল সেই সব লোক দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা সাধনা ব্যর্থ হয়ে গেছে, আর তারা নিজেরা মনে করছে যে, তারা সঠিক পথেই আছে।’’

– সূরা আল কাহাফ ১৮/১০৩-১০৪

 

মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেনঃ

 

“কতক মুখ সেদিন নিচু হবে। আমল করে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে তারা জলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে।’’

– সূরা আল গাশিয়াহ ৮৮/২-৩

 

সহায়ক গ্রন্থঃ

০১) আল কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে শবে মি’রাজ, করনীয় ও বর্জনীয় – আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী।

০২) ইসরা ও মি’রাজ- মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মুমিম। গবেষণা বিভাগ বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, গবেষণাপত্র-৩

০৩) বিদা’আত হতে সাবধান- আবদুল আযীয বিন আবদুল্লাহ বিন বায।

০৪) বিদা’আতের ভয়াবহতা- মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উসাইমিন।

০৫) বিদা’আত হতে সাবধান- সালিহ আল-ফাওযান।

০৬) বিদা’আত- ড. আহমদ আলী

০৭) বিদা’আতের পরিচয় ও পরিনাম, ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম ভুইয়া। গবেষণা বিভাগ, গবেষণা পত্র-১৪

০৮) ১২ মাসে ১৩ পরব, আবদুল হামীদ ফাইযী

০৯) আর রাহীকুল মাখতুম, সফিউর রহমান মুবারকপুরী।

১০) সীরাতুর রাসুল, আসাদুল্লাহ আল-গালীব।

১১) যাদুল মা’আদ- ইবনুল কাইয়িম।

১২) প্রচলিত জাল হাদীস, মাওলনা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক।

১৩) হাদীসের নামে জালিয়াতি, আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর।

১৪) প্রচলিত জাল হাদীস, মুহাম্মাদ জুনায়েদ বাবুনগরী।

 

সংকলনঃ সত্যান্বেষী রিসার্চ টীম
পরিবেশনায়ঃ সত্যান্বেষী রিসার্চ টীম
প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 116 times, 1 visits today)

Follow me!

Related Post

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team