সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ(র) কে নিয়ে মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজীর মিথ্যাচার

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী আমাদের দেশের একজন সুপরিচিত হানাফী আ’লিম। তিনি হানাফী মুহাদ্দিছ হাবীবুর রহমান আযমী(র) এর তাহক্বীক্বের পক্ষপাতিত্ব করতে গিয়ে হাফিয যুবাইর আলী যাঈ(র) কে নিয়ে অনেক বাজে মন্তব্য করেছেন ও তাকে মিথ্যাচারের ব্যাপারে অভিযুক্ত করেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই যে কত বড় মিথ্যাচার করেছেন তা এই প্রবন্ধটি পড়েই বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, “লা-মাযহাব মতবাদের মূল ভিত্তিই হল মিথ্যা ও প্রতারণা। ক্বুর’আন ও হাদীছ বিষয়ে যে যত বড় মিথ্যুক ও প্রতারক হতে পারে, সেই তত বড় লা-মাযহাবী ও গাইরে মুকাল্লিদ হতে পারে।”

বিস্তারিত দেখুনঃ http://ahlehaqmedia.com/5992/

আমি এখন মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজীর এই কথা ঘুরিয়ে বলি, “কথিত মাযহাব মতবাদের মূল ভিত্তিই হল মিথ্যা ও প্রতারণা। ক্বুর’আন ও হাদীছ বিষয়ে যে যত বড় মিথ্যুক ও প্রতারক হতে পারে, সেই তত বড় কথিত মাযহাবী ও মুকাল্লিদ হতে পারে।”

পুরো প্রবন্ধটি পড়ার পর আমার উক্তির বাস্তবতা ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন।

প্রথমে মুসনাদে হুমাইদীর হাদীছটি (হা/৬২৬) নিয়ে আলোচনা করি। এখানে তিনি ইচ্ছা করলে সত্য উপলব্ধি করতে পারতেন। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে তিনি এখানে সত্য লুকিয়ে ভুলের আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি হুসাইন সালিম আসাদ দারানী এর তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদে হুমাইদীর স্ক্রীনশর্ট দিয়েছেন। তিনি মূল কিতাবের প্রথম পৃষ্ঠার স্ক্রীনশর্ট দিয়েছেন কিন্তু হাদীছের স্ক্রীনশর্ট দেওয়ার সময় “আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ” এর স্ক্রীনশর্ট দিয়েছেন। তিনি যেহেতু মূল কিতাবের প্রথম পৃষ্ঠার স্ক্রীনশর্ট দিয়েছেন, সেহেতু তিনি অবশ্যই মূল কিতাবের হাদীছটিও দেখেছেন। আর মূল কিতাবে সঠিকভাবেই হাদীছটি উল্লেখ করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ

দেখুন মূল কিতাবের হাদীছটির স্ক্রীনশর্টঃ

মূলত “আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ” তে এই হাদীছটি হাবীবুর রহমান আযমী(র) এর তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদে হুমাইদী থেকে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু “আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ” তে মুসনাদে হুমাইদীর মুহাক্ক্বিক্ব হিসেবে হুসাইন সালিম আসাদ দারানীর নাম উল্লেখ করা রয়েছে এবং অন্যান্য হাদীছে তার তাহক্বীক্বকৃত হাদীছ উল্লেখ করা রয়েছে। শুধুমাত্র এই হাদীছে এমন করা হয়েছে। আল্লাহু আ’লাম

দেখুন হাবীবুর রহমান আযমী(র) এর তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদে হুমাইদীর হাদীছটির স্ক্রীনশর্টঃ

মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী যদি শুধু “আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ” দেখে এটা বলতেন তবে সেটি তার ভুল হত না। কেননা এটি “আল-মাকতাবাতুশ শামিলাহ” এর ভুল। কিন্তু তিনি মূল কিতাব দেখার পরও নিজের ইচ্ছায় এরকম অপবাদ দিয়েছেন ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্যকে গোপন করো না।” (সূরা বাক্বারাহ – ৪২)

সুতরাং, উপরের হাদীছটিতে হাবীবুর রহমান আযমী(র) এর আসলেই ভুল হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা তার ভুলগুলো ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফিরদাওস দান করুক। আমীন

এখন ইমাম আবু আওয়ানাহ এর “আল-মুসতাখরাজ আ’লা ছহীহ মুসলিম” এর হাদীছটি (হা/১৫৭২) নিয়ে আলোচনা করি।

এখানে তিনি অনুবাদে ইচ্ছাকৃত ভুল করেছেন। দেখুন তার এই হাদীছটির অনুবাদের স্ক্রীনশর্টঃ

কিন্তু মূল কিতাবের হাদীছটির প্রথম অংশে “কেউ কেউ বলেছেন” এইভাবে হাদীছটি আছে। তিনি যদি এতটুকু অনুবাদ করতেন তবে সবাই বুঝে যেতো “রুকূতে যাওয়ার সময় ও রুকূ থেকে উঠার সময় রফউল ইয়াদাঈন করতেন না” এটি ছাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমার(রা) এর উক্তি নয় বরং অন্যান্য রাবীদের উক্তি। মজার বিষয় হল, তিনি শেষে “সিজদাহ এর সময় রফউল ইয়াদাঈন করতেন না” এই বিষয়ে ঠিকই উল্লেখ করেছেন “কেউ কেউ বলেছেন” কিন্তু প্রথম অংশে সেটির অনুবাদ করেন নি।

দেখুন মূল কিতাবের হাদীছটির স্ক্রীনশর্টঃ

উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী সত্যকে গোপন করতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন এবং হাফিয যুবাইর আলী যাঈ(র) কে নিয়ে মিথ্যা বলেছেন। বরং তিনিই মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়েছেন। আল্লাহ তাকে হিদায়াত দান করুক এবং তিনি যাতে তার ভুল থেকে ফিরে আসতে পারেন এই দু’আ করি। আমীন

মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী আরো বলেন, “উপরোক্ত দু’টি রেফারেন্সে যুবাইর আলী যাঈ(র) যে মিথ্যুক তা প্রমাণিত হওয়ার পর বাকীগুলোর অবস্থাও আশা করি বুঝে গেছেন। মিথ্যাই যাদের সম্বল।

আর উলামায়ে দেওবান্দ সম্পর্কে এমন জঘণ্য কথা শুনে হয়রান হবার কিছু নেই। উলামায়ে দেওবান্দ নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাচ্চা আশিক্ব। সুন্নাতে নববীর সত্যিকার অনুসারী।

তারা কিছুতেই দ্বীনের নামে, নবীর হাদীছের নামে প্রতারণা করেন না।”

আমি এখন মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজীর এই কথা ঘুরিয়ে বলি, “উপরোক্ত দু’টি রেফারেন্সে মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী যে মিথ্যুক তা প্রমাণিত হওয়ার পর তার অন্যান্য প্রবন্ধের অবস্থাও আশা করি বুঝে গেছেন। মিথ্যাই যাদের সম্বল।

আর উলামায়ে আহলে হাদীছ সম্পর্কে এমন জঘণ্য কথা শুনে হয়রান হবার কিছু নেই। উলামায়ে আহলে হাদীছ নবীজী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাচ্চা আশিক্ব। সুন্নাতে নববীর সত্যিকার অনুসারী।

তারা কিছুতেই দ্বীনের নামে, নবীর হাদীছের নামে প্রতারণা করেন না।”

বি.দ্রঃ উলামায়ে দেওবান্দ কে আমরাও শ্রদ্ধা করি। হক্ব বা সঠিক কথা যেই বলুক না কেন আমরা তা তাহক্বীক্ব করে গ্রহণ করি। আর উলামায়ে আহলে হাদীছও যদি ভুল করে থাকে তবে তা আমরা গ্রহণ করি না। কেননা কেউই ভুলের উর্দ্ধে নয় রসূল(স) ছাড়া। সর্বোপরি হক্ব বা সঠিক কথা আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আলহামদুলিল্লাহ

তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে ক্বুর’আন ও ছহীহ হাদীছ দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আমীন

© Shottanneshi – সত্যান্বেষী কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 376 times, 1 visits today)

Follow me!

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team