সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

হানাফী কেল্লার পোষ্ট মর্টেম – ০১

Hanafi Kella 01

বইয়ের নামঃ হানাফী কেল্লার পোষ্ট মর্টেম (প্রথম খণ্ড)

ফাইল টাইপঃ  পি.ডি.এফ

ইসলামের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হচ্ছে ইসলামকে টুকরো টুকরো করে ভাগ করে নেওয়া। শাহ্ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবীর রহঃ এর বক্তব্য অনুযায়ী হিজরী সনের চার শতাব্দি অবধি প্রচলিত মাযহাবের অস্তিত্ব ছিল না। যদিও হাদীস বুঝার ক্ষেত্রে আলিমগণের মধ্যে ইখতিলাফ ছিল, যেমন মত পার্থক্য ছিলো সাহাবীদের মধ্যে। কিন্তু এই মত পার্থক্য কখনও পৃথক দল বা মাযহাব তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। সাহাবীদের স্বর্ণযুগের পরে তাঁদের ও পরবর্তী লোকদের দূরত্ব যতই বৃ্দ্ধি পেয়েছে ততই মনের কলুষতা ও কপটতা প্রকট থেকে প্রকটতর হয়ে চলেছে। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য নবী সাঃ এর নামে হাদীস তৈরি করতেও তাঃরা কুন্ঠাবোধ করেনি। ইবনুল জাওযী রহঃ তার কিতাব ‘আল মাওযূআত’ গ্রন্থে ‘ইমাম আবূ হানীফার মর্যাদা সূচক হাদীদের অধ্যায়ে’ কয়েকটি হাদীস এনেছেন যা জাল ও ভিত্তিহীন। যেমনঃ

“আমার উম্মাতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করবেন যার নাম হবে নু’মান ও উপনাম হবে আবূ হানীফাহ্ । তিনি আমার উম্মাতের ‘চিরাগ’ (জ্বলন্ত বাতি)।

অনুরূপভাবে সাহাবী আনাসের রাঃ নাম দিয়ে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেনঃ

“আমার উম্মাতের মধ্য হতে একজন লোকের জন্ম হবে যার নাম হবে মুহাম্মদ ইবনু ইদরীস (শাফেয়ী)। আমার উম্মাতের জন্য তিনি (অভিশপ্ত) ইবলীসের চাইতেও ক্ষতিকর। (অপরদিকে) আমার উম্মাতের মধ্য হতে এক ব্যক্তির (আবির্ভাব) হবে যাকে আবূ হানীফাহ বলা হবে, তিনি আমার উম্মাতের চিরাগ, তিনি আমার উম্মাতের চিরাগ।”

ইবনুল জাওযী রহঃ লিখেছেন – ‘হাদীসটি জাল, আল্লাহ জালকারীর প্রতি লা’নত বর্ষণ করেন’। (২য় খন্ড ৪৯ পৃষ্ঠা)

কোন মাযহাব পন্থীরই এটা কারসাযী, এতে কোন সন্দেহ নেই। বিপক্ষকে জব্দ করার এটা অপকৌশল। যেমন বর্তমানে সমগ্র হানাফী জগতের পক্ষ হতে কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসারীদের পরিচয় জ্ঞাপক নাম ‘আহলুল হাদীস’ ধারণকারীদেরকে জোড় গলায় বলা হচ্ছে এরা ‘ইংরেজদের তৈরি’। সুবহা-নাল্লাহি হা-যা বুহতানুন আযীম!

অপরদিকে তারা নিজেদের হানাফী দাবি করলেও তারা প্রকৃতপক্ষে ইমাম আবূ হানিফাকে পরিপূর্ণ অনুসরণ করেনা। কেননা ইমাম আবূ হানীফা রহঃ বলেছেন “যখনই সহীহ হাদীস পাওয়া যাবে, তখন সেটাই আমার মাযহাব।” (রদ্দুল মুহতার, ১ম খন্ড ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

যদি তারা তার প্রকৃত অনুসারী হতেন তাহলে স্পষ্ট সহীহ হাদীসের মুকাবিলায় ভেজাল ও বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা করতেন না। স্বঘোষিত খাদিমে হাদীস শরীফ ‘মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন চাঁদপুরী’ হানাফী কেল্লা নামক বই লিখে বাজার দখল করে ফেলেছেন বলে তার ও তার অন্ধভক্তদের দাবি। কিন্তু তিনি তাতে মৌলিক বিষয় আকীদাহ্ নিয়ে কিছুই লিখেন নি। কেননা আকীদাতে তারা হানাফী নন, বরং তাতে অন্য কেল্লার আশ্রয় প্রার্থ, যে কেল্লার মুখোশ উন্মোচিত হলে তাদের ইসলাম নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যাবে।

এই বইয়ে মূলত হানাফী কেল্লা বইটির জবাব দেওয়া হয়েছে। চারশত শতাব্দির পর হতে অদ্যাবধি তথাকথিত এই হানাফী গ্রুপের রহস্য উন্মোচনে বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য পুস্তক-পুস্তিকা রচিত হয়েছে। তাদের হেড কোয়ার্টার দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতেই তারা এ সব করে চলেছেন। হাদীসের বইগুলিতে লাইনের ফাঁকে ফাঁকে টীকা-টিপন্নীতে সহীহ হাদীস খন্ডনের পায়তারা শুরু হয়েছে তা যেহেতু ইচ্ছাকৃত, সেহেতু তারা হক প্রকাশিত হলে তা মেনে নেবেন, এমন সম্ভাবনা দূরাস্ত।

পরিশেষে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, হে আল্লাহ! নাসীরুদ্দীন চাঁদপুরী দুআ করেছেন ‘হানাফী মাযহাব’ কে রক্ষা করার জন্য। আর আমরা দুআ করছি আল কুরআন ও তোমার নবী সাঃ এর সহীহ সুন্নাকে রক্ষা করার জন্য। কেননা তুমিই দায়িত্ব গ্রহণ করেছ রক্ষা করার। (সূরা হিজরঃ ৯)

বইটি সংকলন করেছেন শায়খ আনওয়ারুল হক ফাইযী, এবং তার সম্পাদনা করেছেন শাইখ আব্দুল্লাহ সালাফী। প্রকাশ করেছেন সরল পথ পাবলিকেশন। বইটি ডাউনলোড করেতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন।

¤ হানাফী কেল্লার পোষ্ট মর্টেম (প্রথম খণ্ড) – আনওয়ারুল হক ফাইযী  (১৬.৩১ এম. বি.)

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 1,550 times, 2 visits today)

Follow me!

Related Post

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team