সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

ঘোড়ার লেজ নাড়ানো বিষয়ক হাদীসের পর্যালোচনা

17. Ghorar Lej

রফউল ইয়াদাইন করার বিপক্ষে হানাফিরা জাবের বিন সামুরা (রাঃ) বর্ণিত হাদিস দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন। হাদীসটি হচ্ছেঃ

জাবের বিন সামুরা (রাঃ) একদিন রাসূল (সাঃ) আমাদের নিকত তাশরিফ আনলেন এবং বললেন,  “কি ব্যাপার আমি, তোমাদেরকে হাত উঠাতে কেন দেখি যেন তা, বেয়াড়া ঘোড়ার ঊর্ধ্বে উথিত লেজ! তোমরা সালাতে স্থির থাক।”

–  সহিহ মুসলিম (১/১৮১)

এই হাদীস থেকে কিছু আলেম বলতে চাচ্ছেন যে, এই হাদীসে রাসূল(সাঃ) রফউল ইয়াদাইন করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি সালাতে স্থির থাকতে বলেছেন। এর আগে মুসলিমে এটি বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তাতে সালামের সময় স্থির থাকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আলিমদের দাবী এই হাদীস এবং পরের হাদীসের মতন এক না এবং দুটি হাদীস দুই প্রেক্ষাপটে বর্ণিত।

আমাদের জবাবঃ
যেহেতু হাদিসে ব্যাখা হাদিস এবং সালাফদের বুঝ থেকেই আমাদের গ্রহন করতে হবে, কাজেই আমি সেদিকে যাব কোন ভিন্ন পথে যাওয়া আমাদের উচিত হবে না।

তাহলে এই হাদীস সম্পর্কে সালাফগণ কি বলেছেন এবং এই হাদীস আর কোথায় বর্ণিত হয়েছে সেটা যাচাই করলেই আমরা দেখতে পারব আসলে এই হাদীসকি আসলেই রফউল ইয়াদাইন করতে নিষেধ করেছেন কিনা?

১ম উত্তরঃ

জাবের বিন সামুরা (রাঃ) এর হাদীসের ব্যাখ্যাঃ

জাবের বিন সামুরা (রাঃ) হতে বরনিতঃ রাসুল (সঃ) বলেন, কি ব্যাপার, আমি তোমাদেরকে দুষ্ট ঘোড়ার মত হাত উঠাতে দেখি কেন? নামাযে শান্ত থাক এবং ধীর ভাবে নামায পড়।

–  মুসলিম হাদিস নং ৮৬৩

আমিরুল মু’মিনীন ফিল হাদীস ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ

যে মানুষ জ্ঞানের সামান্য ছোঁয়া পেয়েছে সেও এ হাদীস দ্বারা রফউল ইয়াদাইন বর্জনের দলিল নেবে না। এটা একেবারে পরিষ্কার ও প্রসিদ্ধ বিষয়। এটা হচ্ছে সালামের ব্যাপারে। এতে কোন মতভেদ নেই।

–  যুয রাফউল ইয়াদাইন ১৫ পৃষ্ঠা

এ হাদীস রুকূর আগে ও পরের রফউল ইয়াদাইন নিষেধ হওয়া সম্পর্কে ইবারতের মধ্যে তার কোন উল্লেখ নেই। কেও দেখাতে পারবে না যে কোন হাদীসের ইমাম কোন হাদীস গ্রন্থে এই বিষয়ে বর্ণিত কোন হাদীস রফউল ইয়াদাইন না করা আনুচ্ছেদে নিয়ে এসেছে। এ হাদিসে সালাম ফিরানোর সময় হাত দিয়ে ইশারা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যেটা ২য় বর্ণনা (পরবর্তী হাদিস ৮৬৪ মুসলিম) থেকে তার ব্যাখ্যা মউযুদ রয়েছে।

জাবের (রাঃ) বলেন আমরা রাসুল (সাঃ) এর সঙ্গে সালাত পরছিলাম। যখন আমরা সালাম ফিরাচ্ছিলাম তখন আমরা হাত দিয়ে ইশারা করছিলাম। এটা দেখে রাসুল(সাঃ) আমাদের বললেন, কি ব্যাপার কি ব্যাপার, আমি তোমাদেরকে দুষ্ট ঘোড়ার মত হাত উঠাতে দেখি কেন? নামাযে শান্ত থাক এবং ধীর ভাবে নামায পড়।

এ দুটি হাদীস মুসলিম এর একই আনুচ্ছেদে বর্ণিত। আর এই শব্দ “আমি তোমাদেরকে দুষ্ট ঘোড়ার মত হাত উঠাতে দেখি কেন?” দু জায়গায় বর্ণিত হয়েছে। যেটা একই ঘটনার জ্বলন্ত প্রমান।

ইমাম নববী (রহঃ) ঐ দুটি হাদিস এভাবে একই আনুচ্ছেদে এনে শুরু করেছেন “সালাতে শান্ত থাকাঃ সালামের সময় হাত উঠিয়ে তা দ্বারা ইশারা করা নিষেধ”

–  শরহে মুসলিম, খণ্ড ৪র্থ, পৃষ্ঠা ১৫২

ইমাম নাসাঈ রহঃ এই হাদিসের উদ্দেশে এভাবে বাব বেঁধেছেন “নামাজের শেষে হাত উত্তোলন করে সালাম ফিরানো”

1

– তাহাকিক সুনানে নাসাঈ, খণ্ড ১ম, প্রিশ্তা ৩৭৯, হাদিস নাম্বারঃ১১৮৫ আরবি

ইমাম আবু দাউদ এ হাদিসের উপর এভাবে বাব বেঁধেছেন “সালাতে শান্ত থাকাঃ সালামের সময় হাত উঠিয়ে তা দ্বারা ইশারা করা নিষেধ”

159

– সুনানে আবু দাউদ, পৃষ্ঠা ৭০, ইঃফাঃ।

তিনি এই বাবে উপরের আলোচিত হাদিসটি এনেছেন। তার মানে সহজেই আমরা বুঝতে পারি ইমাম আবু দাউদের (রহঃ) মতে এই হাদিসে রাসূল(সঃ) রফউল ইয়াদাইন না করার আদেশ দেন নি।

হাদিসটি নিম্নরুপঃ

195

সুনানে আবু দাউদ, পৃষ্ঠা ৭২, হাদিস নাম্বারঃ১০০০; ইঃফাঃ।

আর ইমাম তাহাবি যিনি হানাফী মাযহাবের একজন বিখ্যাত পন্ডিত তিনিও এ হাদিসের উপর এভাবে বাব বেঁধেছেন “সালাতে শান্ত থাকাঃ সালামের সময় হাত উঠিয়ে তা দ্বারা ইশারা করা নিষেধ।”

– শরহে মানি-আল আসার খণ্ড ১ম, পৃষ্ঠা ২৬৮, ২৬৯ আরবি

এবং প্রমান করেছেন এটা সালামের ব্যাপারে। ইমাম তাহাবী এ হাদিস নিয়ে রফউল ইয়াদাইন মানসুখের দলিল নেন নি।

ইমাম বাইহাকী রহঃ সালাম সম্পর্কিত বাবে (অনুচ্ছেদ) এই হাদিস উল্লেখ করেছেন।

– আস সুনান আল কুবরা ২য় খণ্ড, ১৮১ পৃষ্ঠা

দ্বিতীয় উত্তরঃ

এই হাদিস থেকে আমরা কি রফউল ইয়াদাইন না করার দলিল নিতে পারবঃ

এই হাদিস সম্পর্কে মুহাদ্দিসগন বিস্তারিত আলোচনা এবং ব্যাখা করেছেনঃ

প্রথমেই ইমাম বুখারি (রহ) এর কথাঃ

ইমাম বুখারি (রহ) বলেন, “যে ব্যক্তি জ্ঞানের সামান্য ছোঁয়া পেয়েছে সেও এ হাদিস দ্বারা রফউল ইয়াদাইন বর্জনের দলিল নেবে না। এটা একেবারে পরিষ্কার ও প্রসিদ্ধ বিষয়। এটা হচ্ছে সালামের ব্যাপারে। এতে কারও কোন মতভেদ নেই।”

– যুয বুখারী ৩৭ পৃষ্ঠা, আল তালখিস আল কাবির, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২১

ইমাম বুখারী তার রেসালার যুয বুখারী ১৩ পৃষ্ঠায় এই বিষয়টি সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।

হাদিসের সকল ইমাম তাদের নিজ নিজ গ্রন্থে সালামের আনুচ্ছেদে এনাছেন। সালাতে রফউল ইয়াদাইন না করার আনুচ্ছেদে কেও আনেন নি।

হাফেয ইবনে হাজার (রহঃ) তালখিছের মধ্যে বলেন, “এ হাদিস থেকে রুকূর সময় রফউল ইয়াদাইন নিষিদ্ধ কখনও প্রমানিত হয় নাই। কেননা এ হাদিস সংক্ষিপ্ত, যেটা পরবর্তী হাদিসে এই হাদিসের তাফসির হিসাবে এসেছে। আর সালামের সময় হাত দিয়ে ইশারা করা ঠিক নয়।”

– আল তালখিস আল কাবির খণ্ড ১ম, পৃষ্ঠা ২২১

তারপর হাফেয ইবন হাজার (রহঃ) ঐ পৃষ্ঠায় বলেন, “এ হাদিস থেকে রফউল ইয়াদাইন না করার দলিল নেয়া সঠিক হবে না। হ্যাঁ, প্রথম হাদিস অবশ্যই সংক্ষিপ্ত রূপ (ওটা সালামের সময় হাত দিয়ে ইশারা করা নিষেধ করা হয়াছে) যেটার বর্ণনা ২য় হাদিছে এসেছে।”

– তালখিস ১ম,২২১ পৃষ্ঠা

এরপর ইবনে হাজার (রহ) ইবনে হিব্বান(রহঃ) থেকে এই বিষয়ে একই রকম কথা নকল করেছেন।

ইবনে হিব্বান রহঃ বলেন, “এ হাদিস থেকে রুকূ ওয়ালা রফউল ইয়াদাইন না করা সঠিক নয় যেটা সহীহ হাদিস থেকে প্রমাণিত। হ্যাঁ, অবশ্যই ওটা সালামের সময় হাত দিয়ে ইশারা করা নিষেধ করা হয়াছে যেটার বর্ণনা মুসলিমের ২য় হাদিছে এসেছে।”

– তালখিস ১ম,২২১ পৃষ্ঠা; সহিহ ইবনে হিব্বান, ৩/১৭৮, হাদিস ১৮৭৭

ইমাম নববী (রহ) বলেন, “যে ব্যক্তি এই হাদিস থেকে রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার পরে রফউল ইয়াদাইন না করার দলিল গ্রহন করল, সে একটা বড় ধরনের অবাধ্যতা করল। কেননা রুকুর পূর্বে এবং পরে রফউল ইয়াদাইন করা সহীহ এবং ভুল প্রমাণিত করা যাবে না।”

– শরহে মুহাযযাব ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০৩

হাফিয ইবন আল-মুলকান (রহ) বলেন, “এই হাদিস থেকে দলিল গ্রহন করা খুব মারাত্বক এবং বড় ধরনের অবাধ্যতা, যে আমল রাসূল(সঃ) এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত, কারন এই হাদিস রুকু আগে এবং পরে রফউল ইয়াদাইন করা নিয়ে বর্ণিত হয় নি, আসলে, সাহাবায়েগন সালাম ফিরানোর সময় হাত দ্বারা ইশারা করতেন……আর এই বিষয়ে নিয়ে আহালূল হাদিস (বিদ্বানদের) দের মধ্যে কোন ভিন্ন মত নেই। যার হাদিসের সাথে খুব সামান্য সম্পর্ক রয়েছে, কেবল সেই এই হাদিস গ্রহন করতে পারে।

– আল বদর আল-মুনয়ার ,খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৮৫

তৃতীয় উত্তরঃ

যদি এই হাদিস রফউল ইয়াদাইন করতে নিষেধ করে, তাহলে প্রথম তাকবির, বিতর এবং ঈদের সালাতের সময় রফউল ইয়াদাইন করা কেন নিষেধ হবে না? কারন তাদের মতে এখানে স্পষ্টভাবে সকল রফউল ইয়াদাইন করতে না করা হয়েছে, নির্দিষ্টভাবে কোন একটি জায়গার কথা বলা হয় নি। তখন তারা জবাবে বলবে অন্য হাদিসে তাকবির এর সময় রফউল ইয়াদাইন আছে, কাজেই সেটা ব্যাতিক্রম আমাদের জবাবও একই অন্য হাদিসে রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার আগে রফউল ইয়াদাইন এর কথা আছে, কাজেই সেটাও ব্যাতিক্রম।

চতুর্থ উত্তরঃ

রফউল ইয়াদাইন এর বিপক্ষের দলিল হিসাবে এই হাদিস যারা উল্লেখ করেছেন, সেই হাদিসে কিন্তু রুকু করার আগে এবং এর পরে রফউল ইয়াদাইন নিষেধ করা হয়েছে বলে এরকম কিছু নেই, অপর পক্ষে রফউল ইয়াদাইন করার পক্ষের হাদিসগুলোতে রুকু করার আগে এবং পরে রফউল ইয়াদাইন এর কথাটি এসেছে এবং সেটা মুতায়াতির হাদিস দ্বারা প্রমানিত। কারন স্পষ্ট বা মুফাসসির কথা সব সময় অস্পষ্টতার তথা মুবহাম এর উপরে প্রাধান্য পাবে। হাফিয ইবন হাজার রহঃ লিখেছেন,

“মুফাসসির তথা স্পষ্ট বিষয় সব সময় মুবহাম তথা অস্পষ্ট বিষয়ের উপরে প্রাধান্য পাবে।”

– ফাতহূল বারী, ২৮৩/১০ আরবি

পঞ্চম উত্তরঃ

যদি এই হাদিসে উল্লিখিত রফউল ইয়াদাইন কথাটি রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার পরের রফউল ইয়াদাইনকে নির্দেশ করে এবং এরকম করতে মানা করে তাহলে বলতে হবে রফউল ইয়াদাইন খুব অপছন্দনীয় কাজ এবং সেটা রাসূল সঃ এর কাছে ভাল কাজ নয়।
কিন্তু হানাফি ভাইয়েরা বলেন আগে রফউল ইয়াদাইন ছিল, রাসূল সঃ থেক মুতয়াতির হাদিসে প্রমানিত রাসূল সঃ রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার পরে রফউল ইয়াদাইন করেছেন, এবং সেটা আগে সুন্নত ছিল, তাহলে রাসূল সঃ কি নিজেই অপছন্দনীয় বা ক্ষতিকর কাজ করেছেন, অথচ আমরা বিশ্বাস করি রাসূল সঃ যেটা অপছন্দ করতেন তিনি কখনও সেটা করতে পারেন না। কাজেই আমরা বলব এই হাদিস রুকুতে যাওয়ার আগে এবং রুকু থেকে উঠার পরে রফউল ইয়াদাইন নিষেধ করার হাদিস নয়। কারন রাসূল সঃ এমন কোন আমল করবেন না, যেটা প্রথমে তাঁর সুন্নত ছিল এবং পরে সেটা তিনি অপছন্দ করেছেন এবং করা দেখলে তাদের নিষেধ করেছেন। কাজেই এই হাদিস সালাম সম্পর্কেই বর্ণিত।

শেষে কিছু কথাঃ
হাফিয আব্দুল মান্নান নুরপূরি রহঃ তাঁর একটি চিঠিতে আব্দুল রাশেদ কাশ্মিরি রহঃ কে লিখেছেন,
‘জাবির রাঃ এর হাদিস থেকে এমন কোন আলামত পাওয়া যায় না, যে এটা রুকুর সময় রফউল ইয়াদাইন নিষেধ করে, যদিও এই হাদিসের একাধিক মতন থাকে, কারন এই হাদিসে যেমন সালাম ফিরানোর বর্ণনা নেই, ঠিক তেমনি রুকুর সময় রফউল ইয়াদাইন এর বর্ণনা নেই, কাজেই এই হাদিস দিয়ে রুকুর সময় রফউল ইয়াদাইন নিষেধ হয়ে গেছে, এ রকম দলিল দেয়া অজ্ঞতা  ছাড়া আর কিছুই নয়।’
জুবাইর আলি যাই রহঃ এর কিতাব থেকে।

এই হাদিস দলিল হিসাবে নেয়ার ক্ষেত্রে হানাফি ভাইয়েরা খেয়ানত করেছেন, কারন এরকম বাজে অভিযোগ আসবে বলেই ইমাম বুখারি রহঃ, ইমাম নববী রহঃ, হাফেয ইবন হাজার রহঃ, সহ অনেক বড় বড় আলিম এই হাদিসের ব্যাখা এবং সঠিক অর্থ বলে গেছেন। এটাও বলেছেন এই হাদিস দিয়ে রফউল ইয়াদাইন না করার দলিল দেয়া মূর্খতা এবং ভণ্ডামি ছাড়া কিছু না। সালাফদের বুঝের বাইরে নিজের খেয়ালখুশি মানলে মাযহাব টিকানো যেতে পারে,  কিন্তু রাসূল সঃ এর সুন্নতের উপরে আমল হবে না।

আমি শেষে মহান ইমাম আবু হানিফা রহঃ এর একটি সুন্দর কথা সবার জন্য উল্লেখ করছি,
“দলিলের উপরে অনড় থাক এবং সালাফদের পথ এবং বুঝ অনুসরণ কর এবং নতুন নতুন আবিষ্কারকদের আবিষ্কার থেকে সতর্ক থাক এবং সেখান থেকে দূরে থাক।”

– শাওয়াল মূনতাক আস সুয়ূতি পৃষ্ঠা ৩২

লেখাটি লিখতে সহায়ক কিতাবঃ নূল আর আইন ফি মাসালে রফউল ইয়াদাইন লেখক শায়খ জুবাইর আলি যাই রহঃ

আল্লাহ আমাদের এরকম মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন।

সংকলনঃ  সত্যান্বেষী  রিসার্চ  টীম

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 1,349 times, 1 visits today)

Follow me!

Related Post

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team