সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

ইশ! এই বইগুলো যদি না লিখা হতো – ০২

10 Books 02

এমন ১০ টি বই যেগুলো সম্পর্কে বিদাতিরা ভাবে যে, কতইনা ভালো হত যদি এগুলো না লিখা হতো!

প্রথম পর্ব পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

দ্বিতীয় বইঃ রিসালাহ আমাল বিল হাদীস          |          লেখকঃ শাইখ ওয়ালাইয়াত আলী সাদিকপুরী

এই বিষয়টায় মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যে, যে ব্যক্তি তার নিজের পেশায় ব্যস্ত আর এ কারণে সে পড়াশুনা করতে সক্ষম নয় যা তাকে ভাবায় যে, তার জন্য কোনো মুসলিম আলিমকে প্রশ্ন করাই যথেষ্ট; তার জন্য এটা গ্রহণযোগ্য যে, সে তাদেরকে প্রশ্ন করবে যারা হাদীসের বিশেষজ্ঞ, ন্যায়পরায়ণ ও ধার্মিক আলিম আর আল্লাহকে ভয় করে এবং কুর’আন হাদীসের ব্যপারে পন্ডিত হিসেবে পরিচিত। তাদের উচিৎ আলেমদের এইভাবে প্রশ্ন করা যে, “অমুক অমুক বিষয়ে আল্লাহ (আল্লাহ সুবহা নাহু ওয়া তাআলা) এবং তার রাসুল (সা.) কী বলেছেন?” কিংবা “অমুক বিষয়ে ইসলামের বিধান কী?”

বিপরীতে, যদি একজন ছাত্র যার এই সুযোগ আছে যে, সে ইচ্ছা করলে বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে, তার জন্য এটাই উপযুক্ত হবে যে সে সর্বপ্রথম কুর’আন-হাদীস পড়বে তারপর সে অন্য বই নিয়ে আলাপ আলোচনা এবং অধ্যয়ন করবে যাতে সে এ ব্যাপারে জানতে পারে কোন আলেম হক্বের কাছাকাছি এবং এভাবে কারা গ্রহণযোগ্য আর কারা ভুল করেছে। যদি কুর’আন-হাদীসে স্পষ্টভাবে কোনো বিষয় পাওয়া যায় তখন কোনো মুজতাহিদের তাক্বলীদ করা উচিৎ নয়; কারণ, স্পষ্ট বিধানের উপস্থিতিতে তা নিয়ে ইজতিহাদ করা কিংবা সেই ইজতিহাদের তাক্বলীদ করার কোনো ভিত্তি নেই।

মুয়ায বলেন, আল্লাহ’র রাসুল (সা.) তাকে ইয়েমেনে পাঠান এবং পাঠানোর সময় বলেন,

“তুমি কীভাবে বিচার ফায়সালা করবে?” মুয়াজ বলেন, “আমি আল্লাহ’র কিতাব অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করবো।” মহানবী (সা.) বলেন, “যদি আল্লাহ’র কিতাবে তা না পাওয়া যায়, তাহলে কী করবে?” মুয়ায বলেন, “তাহলে আল্লাহ’র রাসুল (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী…” মহানবী (সা.) বলেন, “যদি আল্লাহ’র রাসুল (সা.) এর সুন্নাহতেও না থাকে, তাহলে?” মুয়াজ বলেন, “তাহলে আমি ইজতিহাদ করার চেষ্টা করবো।” (এ কথা শুনে) আল্লাহ’র রাসুল (সা.) বলেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ’র যিনি আল্লাহ’র রাসুলের বার্তাবাহককে উপযুক্ত করেছেন। (তিরমিযী হা/১৩২৭) [হাদিসটির সনদ দুর্বল]

উপর্যুক্ত হাদীস থেকে এটা প্রমাণিত যে, যখন কুর’আন-হাদীসে কোনো বিষয়ে স্পষ্ট বিধান থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবে, আপনা থেকেই ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তা বাতিল হয়ে যায়। যদি আমরা মুজতাহিদদের বইয়ের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো দলীল পাবো তখন, আমাদের উচিৎ হবে পরিষ্কারভাবে সেটা থেকে বিরত থাকা এবং মনেপ্রাণে কুর’আন-হাদীস আকড়ে ধরা। অন্যথায়, মুজতাহিদের উক্তি অবিসম্ভাবিভাবে কুর’আন-হাদীসকেই বাতিল করবে। এই ধরণের চিন্তা-ভাবনা থেকে আল্লাহর সাহায্য ও আশ্রয় চাই।

রিসালা আমাল বিল হাদীস: পৃষ্ঠা-১৬-১৭

মূল উৎসঃ 10 Books Ahlul Bidah Wished That Were Never Written!

অনুবাদকঃ মুজাহিদুল ইসলাম স্বাধীন          |          পুনঃ নিরীক্ষনঃ মোহাম্মদ ওমর ফারুক (মিল্কি)

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 440 times, 1 visits today)

Follow me!

Related Post

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team