সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

আদম সন্তানের ভুলকারীদের মধ্যে সেই উত্তম যে তাওবাহ করে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ البَاهِلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ

রসূলুল্লাহ(স) বলেন, “আদম সন্তান মাত্রই ভুলকারী। আর ভুলকারীদের মধ্যে সেই উত্তম যে তাওবাহ করে।” (তিরমিযী, হা/২৪৯৯; ইবনে মাজাহ, হা/৪২৫১; দারিমী, হা/২৭৬৯; মুসনাদে আহমাদ, ৩/১৯৮, হা/১৩০৪৯; মুসনাদে আবু ইয়া’লা, হা/২৯২২; মুস্তাদরাক হাকিম, ৪/২৪৪, হা/৭৬১৭; বাইহাক্বী, শু’আবুল ঈমান, হা/৬৭২৫; মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ১৩/১৮৭, হা/৩৫২২০; মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ, হা/১১৯৫; মিশকাত, হা/২৩৪১)

ইমাম নাছিরুদ্দীন আলবানী বলেন, হাদীছটি হাসান। (নাছিরুদ্দীন আলবানী, তাহক্বীক্ব তিরমিযী, হা/২৪৯৯)

হামযাহ আহমাদ যাঈন বলেন, এর সানাদ হাসান। (হামযাহ আহমাদ যাঈন, তাহক্বীক্ব মুসনাদে আহমাদ, ৩/১৯৮, হা/১২৯৮৩)

হুসাইন সালিম আসাদ দারানী বলেন, এর সানাদ হাসান। (হুসাইন সালিম আসাদ দারানী, তাহক্বীক্ব দারিমী, হা/২৭৬৯)

আবদুল আলী আবদুল হামীদ বলেন, এর সানাদ হাসান। (আবদুল আলী আবদুল হামীদ, তাহক্বীক্ব শু’আবুল ঈমান, হা/৬৭২৫)

ইয়াসির হাসান বলেন, হাদীছটি হাসান ইনশাআল্লাহ। (ইয়াসির হাসান, তাহক্বীক্ব ইবনে মাজাহ, হা/৪২৫১)

শু’আইব আরনাউত্ব বলেন, এর সানাদ দুর্বল। কারণ আলী ইবনে মাসআ’দাহ দুর্বল। (শু’আইব আরনাউত্ব, তাহক্বীক্ব মুসনাদে আহমাদ, ৩/১৯৮, হা/১৩০৪৯)

কিন্তু পরবর্তীতে তিনি তার মত পরিবর্তন করে এই হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। (শু’আইব আরনাউত্ব, তাহক্বীক্ব ইবনে মাজাহ, হা/৪২৫১)

ইমাম তিরমিযী বলেন, এই হাদীছটি গারীব। আমরা এই হাদীছটি শুধুমাত্র ক্বাতাদাহ থেকে আলী ইবনে মাসআ’দাহ এর সূত্রেই জেনেছি। (তিরমিযী, হা/২৪৯৯)

হাফিয যুবাইর আলী যাঈ বলেন, এর সানাদ দুর্বল। কেননা আলী ইবনে মাসআ’দাহ লাইয়িন (দুর্বল) এবং ক্বাতাদাহ মুদাল্লিস। (যুবাইর আলী যাঈ, তাহক্বীক্ব তিরমিযী, হা/২৪৯৯)

আবু মুহাম্মাদ উসামাহ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ বলেন, এর সানাদ দুর্বল। কেননা আলী ইবনে মাসআ’দাহ শক্তিশালী নন। (আবু মুহাম্মাদ উসামাহ ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ, তাহক্বীক্ব মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ১৩/১৮৭, হা/৩৫২২০)

সা’দ ইবনে নাছির বলেন, হাদীছটি দুর্বল আলী ইবনে মাসআ’দাহ এর কারণে। (সা’দ ইবনে নাছির, তাহক্বীক্ব মুছান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ১৩/১৮৭, হা/৩৬৯৩১)

মুছত্বাফা ইবনে আদাভী বলেন, এর সানাদ দুর্বল। আলী ইবনে মাসআ’দাহ সমালোচিত ব্যক্তি এবং ক্বাতাদাহ মুদাল্লিস। (মুছত্বাফা ইবনে আদাভী, তাহক্বীক্ব মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ, হা/১১৯৫)

মাহমুদ মুহাম্মাদ খলীল বলেন, এর সানাদ দুর্বল আলী ইবনে মাসআ’দাহ এর কারণে। (মাহমুদ মুহাম্মাদ খলীল, তাহক্বীক্ব মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ, হা/১১৯৭)

এই হাদীছের রাবী ক্বাতাদাহ মুদাল্লিস ছিলেন। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, ত্বাবাক্বাতুল মুদাল্লিসীন, রাবী নং ৯২)

আর একজন মুদাল্লিসের হাদীছ তখনই গ্রহণ করা যাবে যখন উক্ত রাবী ‘হাদ্দাছানা’ বা ‘সামি’তু’ বা ‘আখবারানা’ বা ‘ছানা’ বলবে অথবা উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছের শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ থাকবে। কিন্তু উক্ত হাদীছের কোন শাওয়াহিদ ছহীহ হাদীছ নেই। যেগুলো রয়েছে তা সবই দুর্বল।

এই হাদীছের অপর রাবী আলী ইবনে মাসআ’দাহ দুর্বল। (মিযযী, তাহযীবুল কামাল, রাবী নং ৪১৩৫)

ইমাম বুখারী বলেন, ফীহি নাযরুন অর্থাৎ তার (হাদীছের) প্রতি লক্ষ্য করো। (বুখারী, তারীখুল কাবীর, ৬/২৯৪, রাবী নং ২৪৪৮)

ইমাম ইবনে কাছীর বলেন, ইমাম বুখারী যখন কোন ব্যক্তি সম্বন্ধে বলেন “সাকাতু আনহু” অথবা “ফীহি নাযরুন”, তখন জানতে হবে যে, ঐ ব্যক্তি তার নিকট অত্যন্ত নীচু এবং নিম্ন মানের। (ইবনে কাছীর, ইখতিছার উলূমিল হাদীছ, পৃঃ ১০৬)

ইমাম ইবনে আদী বলেন, তার হাদীছসমূহ সংরক্ষিত নয়। (ইবনে আদী, আল-কামিল, রাবী নং ১৩৫৯)

ইমাম ইবনে হিব্বান বলেন, তিনি তার অল্প সংখ্যক বর্ণনায় ভুলকারী ছিলেন এবং এমন একক বর্ণনা করতেন যার কোন মুতাবাআ’ত পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে তার এই সকল বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত যা ছিক্বাহ রাবীদের আখবারের (বর্ণনার) বিপরীত হয়। (ইবনে হিব্বান, আল-মাজরূহীন, ২/১১১, রাবী নং ৬৮৮)

ইমাম আবু দাউদ বলেন, তিনি দুর্বল। (সুওয়ালাতু আবু উবাইদ আজুর্রী লিল আবু দাউদ, রাবী নং ৮০২)

ইমাম উক্বাইলী তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (উক্বাইলী, যু’আফা আল-কাবীর, রাবী নং ১২৪৯)

ইমাম ইবনুল জাওযী তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (ইবনুল জাওযী, কিতাবুয যু’আফা ওয়াল মাতরূকীন, রাবী নং ২৪০৫)

ইমাম যাহাবী বলেন, তার মধ্যে দুর্বলতা আছে। (যাহাবী, আল-কাশিফ, রাবী নং ৩৯৬৫)

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ত্বাহির আল-মাক্বদিসী এই হাদীছকে উল্লেখ করে ইমাম বুখারী ও ইমাম ইবনে আদীর জারাহ উল্লেখ করেছেন। (মুহাম্মাদ ইবনে ত্বাহির আল-মাক্বদিসী, যাখীরাতুল হুফফায, হা/৪২৩৯)

ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। (আব্বাস দূরী, তারীখু ইবনে মাঈন, বর্ণনা নং ৩৯৮১)

ইমাম আবু দাউদ ত্বায়ালিসী বলেন, তিনি ছিক্বাহ। (ইবনে আবু হাতিম, কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল, রাবী নং ১১২২)

ইমাম আবু হাতিম বলেন, কোন সমস্যা নেই। (ইবনে আবু হাতিম, কিতাবুল জারহি ওয়াত তা’দীল, রাবী নং ১১২২)

ইমাম হাকিম তার বর্ণিত হাদীছের সানাদ কে ছহীহ বলেছেন। (মুস্তাদরাক হাকিম, ৪/২৪৪, হা/৭৬১৭)

ইমাম ইবনে খলফুন তাকে ছিক্বাহ বলেছেন। (মুগলাত্বাঈ, ইকমালু তাহযীবীল কামাল, রাবী নং ৩৮৭৮)

ইমাম ইবনে হাজার আসক্বালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তার কিছু বিভ্রান্তি হত। (ইবনে হাজার আসক্বালানী, তাক্বরীবুত তাহযীব, রাবী নং ৪৭৯৮)

উক্ত রাবীর জারাহ অর্থাৎ সমালোচনা বেশী। তাই উক্ত রাবীর বর্ণিত হাদীছ দুর্বল।

সুতরাং, আদম সন্তানের ভুলকারীদের মধ্যে সেই উত্তম যে তাওবাহ করে মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দুর্বল। তাই আমাদের সকলের উচিত তাক্বলীদ মুক্ত হয়ে ক্বুর’আন ও ছহীহ হাদীছ দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করা এবং মেনে চলা। আল্লাহ আমাদের সকলকে হিদায়াত দান করুক। আমীন

(Visited 86 times, 1 visits today)

Follow me!

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team