সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।

হানাফী দেওবন্দী হোটেল – ০২

39. Hanafi Deobandi Hotel 02

এই পর্বটি পড়ার আগে, অনুগ্রহ করে এর আগের পর্বটি পড়ুন। তা পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

কাস্টমার: আরে ভাই ওখানে কি হচ্ছে!!! এটা আমি কি দেখছি!!! ঐ পর্দার পিছনে একজন লোক একজন মহিলার সাথে পায়ুপথে সহবাসে লিপ্ত। আবার ঐদিকে দেখছি দু’জন পুরুষ সমকামিতায় লিপ্ত। এটা কি ধরণের খেলা?

ওয়েটার: আরে ঐ দিকের কামড়াগুলো হলো ফেমিলিদের জন্য। ঐ পুরুষ ও মহিলা হল স্বামী-স্ত্রী। আর তাদের জন্য পায়ুপথে সহবাস করা কোন অদ্ভুত বিষয় না, এটাকে বলে “বিদ্বানদের জন্য ব্যাতিক্রম” যেমনটি আমাদের বড় বড় স্কলারগণ এবিষয়গুলোতে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। এটা আমাদের নির্ভরযোগ্য দেওবন্দী ফিকহের কিতাব উল্লেখ আছে, “যদি একজন লোক তার বিবির সাথে অথবা কোন লোক অন্য লোকের সাথে লুত (আ:) এর কওমের লোকদের মতো আচরণ করে (অর্থাৎ সমকাম করে) তাহলে তাদের উপর কোন হদ/শাস্তি জারি হবে না।” [কদুরী, পৃ: ২১৬]

কাস্টমার: এটা কিভাবে স্কলারদের জন্য ব্যাতিক্রম হয় (অর্থাৎ পায়ুপথে সহবাস), যেটা অস্বাভাবিক, ঘৃণ্য এবং অপছন্দনীয় কাজ।

ওয়েটার: এটা যদি খারাপ কাজই হতো তাহলে এটা আমাদের উলেমাদের জন্য জায়েজ হতো না, বরং এটা আমাদের উলাদের নিকট পছন্দনীয় ছিল এবং এমনকি বেহেস্তেও এটা চলবে। [আল ইশবাহ ওয়ান নাযাইর, পৃ: ১৮৯]

এ সময় একজন কাস্টমার হোটেলের ভিতরের অংশে প্রবেশ করল।

ওয়েটার: ও ভাই, কোথায় যাচ্ছেন? স্টোর রুম তো ঐখানে।

কাস্টমার: ঐটা আপনাদের স্টোর রুম? উহহু! ঐ খানে তো মৃত দেহ, শুকর এবং গাঁধার মৃতদেহ (carcasses) রয়েছে! ঐসব কি?

ওয়েটার: আপনি একজন অদ্ভুত লোক। এটা আমাদের কিতাবগুলোতে লিখা রয়েছে যে যদি কাটা মৃতদেহ (carcasses) লবন হয়ে যায়, তাহলে সে লবন পাক এবং হালাল। এটা গাঁধার ব্যাপারেও বলা হয়েছে, “পঞ্চম পাসহ গাধার সবকিছুই পবিত্র এবং হালাল।” [ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৩] সে কারণে শুকর বা কোন তরকারি রান্নার সময় যে লবন ব্যবহার করা হয় এবং টেবিলের লবনদানীতে যে লবন সরবরাহ করা হয় তার সবই গাধা থেকে বানানো।

কাস্টমার: ভাই আপনার এখানে খাওয়ার মতো উপযুক্ত কিছু পাচ্ছি না। অন্তত: পানিতো দিতে পারবেন?

ওয়েটার: ঠিক আছে ভাই, এক মিনিট অপেক্ষা করুন। নীচ তলার হাউজ থেকে আপনাকে পানি এন দিচ্ছি।

কাস্টমার: তিনি পানির কন্টেইনারের দিকে তাকালেন এবং নীচ তলার পানির হাউজটি দেখলেন এবং তিনি দেখলেন এক পাশে একটা মৃত কুকুর পরে আছে। ফলে তিনি ওয়েটার কে বললেন ব্যপার কি?

ওয়েটার: মনে হচ্ছে আপনার ফিকহের ব্যপারে কোন জ্ঞান নেই। এই পানির হাউজটা আমরা সঠিক মাপে তৈরি করেছি যেমনটি দেওবন্দে শিক্ষা নিয়েছি এবং এটা বিশেষ সাইজে (১০ X ১০) বিঘত মাপে তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং যদি কোন নাপাক বস্তু কোন এক পাশে জমা হয় তবে অপর পাশের পানি নাপাক হয় না, সেটা পরিস্কার ও পবিত্র থাকে। আর এটার জন্য কোন বড় বই দেখার দরকার নেই, বেহেস্তি জেওরয়ে কেউ চোখ বুলালেই দেখতে পাবে।

মাসআলা ১১ : যে জলাধার লম্বায় ও পার্শ্বে ১০ বিঘত এবং এমন গভীর যখন সেখান থেকে পানি তোলা হয় তখন তলদেশ উন্মুক্ত হয় না, এমন জলাধারে যদি নাপাক কিছু পড়ে যায় এবং সেটা যদি প্রস্রাবের মতো দেখা না যায় যেমন রক্ত, এলকোহল, বা অন্যকিছু তাহলে এর সকল পাশ থেকে ওযু করা জায়েজ। [বেহেস্তি জেওর, পৃ: ৫২. পার্ট-১]

কাস্টমার: আপনাদের হোটেলে যদি কেউ রাত কাটাতে চায় তবে তাকে আপনারা কি কি সুবিধা দেন?

ওয়েটার: আমাদের হোটেলে রাত কাটানো কাস্টমাদের আমরা দেওবন্দী ফিকহ অনুসারে সকল ধরণের আনন্দদায়ক সুবিধাগুলো দিয়ে থাকি এবং এটাকে আমরা ধর্মীয় অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব মনে করি। আপনি যদি কোন মেয়ের সাথে আনন্দ করতে চান এবং সেটা টাকার বিনিময়ে হলে তাহলে তার ব্যবস্থা আমরা করব কারণ আমাদের মাযহাবে কেউ যদি টাকার বিনিময়ে কোন মহিলার সাথে যিনা করে তবে তার উপর কোন হদ/শাস্তি নেই। [ফাতাওয়া কাযী খান, ৩/৪৬৮ ; ফাতাওয়া আলমগীরীর হাশিয়া]

কাস্টমার: মদ পরিবেশন করার ব্যপারে আপনাদের কি সুবিধা রয়েছে?

ওয়েটার: স্যার, আমাদের এখানে আঙ্গুর, খেজুর, গম, যব, আপেল এবং আরো অনেক বস্তু থেকে তৈরি মদ রয়েছে। মদ খেতে খেতে যদি আপনি এর বিষাক্ততায় উন্মত্ত হয়ে যান তবে আমাদের মতে, “মদ খাওয়া আপনার জন্য জায়েয।” [ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৪১৪)] আপনি যদি খেজুর থেকে বানানো মদের ৯ গ্লাস খাওয়ার পরেও মাতাল না হন এবং এরপর ১০ম গ্লাস মদ খাওয়ার পর আপনার মধ্যে মাতলামি দেখা দেয়, তাহলে ৯ গ্লাস পর্যন্ত মদ খাওয়া আপনার জন্য জায়েজ, এবং আপনাকে আমরা ৯ গ্লাস পর্যন্ত মদ পরিবেশন করব। [ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/৪১৩]

আমরা এর সাথে আবূ ইউসুফী ব্রান্ডের মদ পরিবেশন করি, যেটি বানানোর নিয়ম আমাদের বিখ্যাত ইমাম কাযী আবূ ইউসূফ তার খলীফা হারুনর রশীদের জন্য বাতলিয়েছিলেন, তার ফূর্তি ও সন্তুষ্টির জন্য।

কাস্টমার: বুঝছি, আসলে আপনাদের এখানে খাওয়া ও পান করার মতো হালাল কোন কিছুই নাই। আমার নিজের সাথে কিছু আপেল আছে, সেটাই বরং খাই। দয়া করে আপেল কাটার জন্য আপনি কি একটা ছুরি দিতে পারেন?

ওয়েটার: তিনি ছুরি এনে টেবিলের উপর পরে থাকা নাপাক জিনিসের পাশে রাখলেন।

কাস্টমার: আরে ভাই, আপনি বোকা নাকি? সেই তো ছুরিটা অপবিত্র জিনিসের পাশে রেখে সেটাও নাপাক করে ফেললেন।

ওয়েটার: দেখুন ভাই, আপনাকে তো আমি আগেই বলেছি কোন বস্তুতে নাপাকি ও নাজাসাহ (যেমন-প্রস্রাব, মল) লাগলে তা জিহ্বা দিয়ে তিনবার চেটে নিলেই পাক হয়ে যায়। আর ছুরির ব্যপারে তো সরাসরিই কিতাবে রয়েছে। ফাতাওয়া আলমগীরীতে বলা হয়েছে যে ‘যখন কোন ছুড়িতে এমন কিছু নাপাকি লেগে যায় তাহলে তা জিহ্‌বা দ্বারা চাটলে বা থুথু লাগালে পাক হয়ে যাবে।’ [ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৫] সুতরাং ছুরিটা আগে জিহবা দিয়ে চেটে নেন তারপর আপেল কাটেন।

কাস্টমার: ভাই ঐখানে দেখি প্রানীর চামড়া রাখা আছে, এগুলো দিয়ে কি করেন?

ওয়েটার: ওটা কুকুরের চামড়া থেকে পাকানো (tanned) হয়েছে। এটা জায়নামাজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কারন আমাদের ফিকহের কিতাব দুররুল মুখতারে উল্লেখ রয়েছে যে ‘কুকুরের চামড়া জায়নামাজ হিসেবে এবং পানি বহণ করার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’ [দুররুল মুখতার, ১/১৫৩] তাই এটা আমাদের দেওবন্দী কাস্টমারদের নামায পড়ার দরকার পড়লে দিয়ে থাকি।

কাস্টমার: মশকটি কিসের এবং এর ভিতরে কি আছে?

ওয়েটার: এটা পানির মশক, আপনাকে এইমাত্র বললাম না যে, আমাদের ফিকহের মত অনুসারে আমরা কুকুরের চামড়া থেকেও পানি রাখার মশক বানাতে পারি। এটার মধ্যে নীচ তলায় অবস্থিত পানির হাউজ থেকে পানি ভরা হয়েছে, যার এক পাশে একটা কুকুর মরে আছে। কিন্তু আমাদের দেওবন্দী ফিকহ মতে অন্যপাশের পানি দিয়ে দেওবন্দী ভাইয়েরা ওযু করতে পারবে।

কাস্টমার: আচ্ছা জায়নামাযের সামনেই একজন মহিলা নগ্নভাবে বসে আছে, আর এমন ভাবে বসে আছে যে তার গোপনাঙ্গ দেখা যাচ্ছে। আবার জায়নামাযের আরেকপাশে ক্যাবিনেটে কোরআন শরীফ রাখা হয়েছে কিন্তু ক্যাবিনেট দেখি তালা মারা।

ওয়েটার: জায়নামাযে নামায পড়ার সময় কোন দেওবন্দী ভাইয়ের যদি যৌন সন্তুষ্টির জন্য মহিলার লজ্জাস্থান দেখার ইচ্ছা জাগে তার জন্য ঐ মহিলাকে নগ্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কারণ আমাদের ফিকহ অনুযায়ী নামাযের সময় কোন মহিলার লজ্জাস্থান দেখলে নামায বাতিল হয়ে যায় না। [আল ইশবাহ ওয়ান নাযাইর, পৃ: ৪১৮] কিন্তু নামায পড়ার সময় কেউ যদি কোরআন দেখে এবং দেখে দেখে তিলাওয়াত করে তবে তার নামায বাতিল হয়ে যায়। [আল-ইশবাহ ওয়ান-নাযাইর, পৃ: ৪১৮] সেকারণেই ক্যাবিনেটে রাখা কোরআন তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যাতে কেউ নামাযের সময় কোরআন দেখে তিলাওয়াত করতে না পারে।

কাস্টমার: ঠিক আছে, তাহলে বলুন ঐ যে লোক নামায পড়ছে (দেওবন্দী লোক), তার পাশে কুকুরের বাচ্চা রাখা হয়েছে কেন?

ওয়েটার: যদি কোন লোক নামায পড়ার সময় কুকুরের বাচ্চা কোলে নিয়ে নামায পড়তে চায় বা বড় কোন কুকুর নামায পড়ার সময় কোলে রাখে তাহলে তার নামায বাতিল হয়ে যাবে না, বড় কুকুরের মাথা অবশ্যই বগলের মধ্যে চেপে রেখে মুখ বন্ধ রাখতে হবে। [দুররুল মুখতার, ১/১৫৩] দেওবন্দী ভাইদের নামাযের মধ্যে জায়েজ এমন সকল সুবিধা রাখা হয়েছে।

চলবে ইনশাআল্লাহ্‌ !

মূল উৎসঃ  Hanafi Deobandi Restaurant – The Famous Indra Gandhi Hotel

অনুবাদকঃ  সত্যান্বেষী  রিসার্চ  টীম

পরবর্তী পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না।

(Visited 389 times, 1 visits today)

Follow me!

Related Post

banner ad
Powered by WordPress | Designed by Shottanneshi Research Team